শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

অন্যথায় বাড়তে পারে লোড শেডিং

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী গ্রীস্মের আগেই ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করার জন্য পিডিবিকে তাগিদ দিয়েছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কোম্পানিগুলো। বকেয়া পরিশোধ না করলে বাড়তে পারে লোড শেডিং। বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) পক্ষ থেকে এমন দাবী জানানো হয়েছে। 

সংগঠনটি বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোতে যে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে। একই সঙ্গে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সংগঠনটি। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য গঠিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পিডিবি বিল না দিলে গ্রীষ্মে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে বাড়বে লোডশেডিং।

বিপ্পার প্রেসিডেন্ট কেএম রেজাউল হাসনাত জানান,বর্তমানে বেসরকারি খাতে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ১০ হাজার কোটি টাকা। আর অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীতে বকেয়া প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও পিডিবি সেটা করছে না। ফলে আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল কিনতে পারছি না। আর ফার্নেস অয়েল আমদানিতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়। এখন বিল পাওয়া না গেলে গ্রীষ্মে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে না। ফলে আসন্ন গ্রীষ্মে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে না। এতে গ্রীষ্মে লোডশেডিং হতে পারে। ঘাটতি হতে পারে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট।

বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের লুটপাট প্রশ্নে রেজাউল বলেন, সবাইকে এক ধরনের ভাবা ঠিক হবে না। কেউ কেউ করে থাকতে পারে। অবশ্যই লুটপাটের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। ভারতের আদানী গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদানীর বিদ্যুতের ওপর কোনো ট্যাক্স-ভ্যাট নেই। ফার্নেসওয়েলের ওপর ১৫ শতাংশের বেশি ট্যাক্স-ভ্যাট রয়েছে। আদানীর ট্যাক্স না থাকার পরও ইউনিটপ্রতি দাম পড়ছে ১৭ টাকা ২০ পয়সা। আর তেলের ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েও ইউনিটপ্রতি খরচ হয় ১৭ টাকা ০৬ পয়সা। তেলের ট্যাক্স বাদ দিলে খরচ আরও কমে আসবে। আদানীর চুক্তি করার আগে তৎকালীন সরকার ফানের্স অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর চাইতে খরচ কম হবে বলে প্রচারণা চালায়। সম্প্রতি বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুলোর ট্যারিফ পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি সম্পর্কে বিপ্পা সভাপতি বলেন, এটা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরাও চাই পর্যালোচনা হোক।

বিপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, চলতি বছর পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ চাহিদা হবে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। আর বছরে ৬ শতাংশ চাহিদা প্রবৃদ্ধি ধরা হলে চাহিদা হবে ১৮ হাজার ২৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু সর্বোচ্চ পিক আওয়ারে নবায়নযোগ্য কেন্দ্রগুলো থেকে কোনো বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। ফলে চাহিদা মেটাতে হলে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ গ্যাস সংকট বিদ্যামান। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতার উৎপাদন করতে পারে না।

লোকসানের কথা জানিয়ে ইমরান বলেন, ২০২২ সালের শেষ থেকে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া পিডিবির বিদ্যুতের বিল বিলম্বে দেওয়ার কারণে ব্যাংকের ঋণের সুদ বাবদ দিতে হয়েছে তিন হাজার ২শ কোটি টাকা। এটাও লোকসান। বেসরকারি খাতের অনেক কোম্পানির মূলধন এখন ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ব্যাংকও বিশ্বাস করতে চাইছে না। এ জন্য সরকারকে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা থেকে এখনই উদ্যোগ না নিলে সামনে সেচ মৌসুমে কৃষিতে সমস্যা হবে। এতে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ